Translate

বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৪

যদি কোন দিন মনে পরে, তবে কষ্ট করে ভেব নাহ আমায়.........
কোন রাতের দুঃসপ্ন ভেবে ভুলে যেও......।।

শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৪

নিজচেষ্টায় সব করা যে সম্ভব এমনটাই প্রমাণ করলেন ভোলার এক যুবক। তিনি উদ্ভাবন করেছেন জ্বালানিবিহীন মোটরসাইকেল। সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তিনি মোটরসাইকেলটি আবিষ্কার করেন। যা কোনো ধরনের তেল-গ্যাস ছাড়া ধোঁয়াবিহীন শতভাগ পরিবেশবান্ধব। আর মোটরসাইকেলটি চলাতে প্রতি ১৫০ কিলোমিটারে খরচ হবে মাত্র ১২ টাকা।
দীর্ঘ ২ বছর চেষ্টার পর ব্যাটারি চালিত মোটর সাইকেলটি উদ্ভাভন করেছেন ভোলা সদর উপজেলার উকিল পাড়ার মোটর মেকানিক মৃত মীর আনোয়ার হোসেনের ছেলে মীর ইব্রাহিম হোসেন রাজু।
আবিষ্কার এক বাংলাদেশির! পেট্রল ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর পদ্ধতি আবিষ্কার (প্রতি ১৫০ কিলোমিটারে খরচ হবে মাত্র ১২ টাকা)
পড়া-শুনার ফাঁকে বাবার মোটর গ্যারেজ আসা যাওয়ার মাধ্যমে আগ্রহটা তৈরি। অবশেষে মাধ্যমিকের গন্ডি পাড় করে যখন ভকেশনালের ছাত্র ঠিক তখন বাবার মৃত্যু। গ্যারেজের দায়িত্ব এবার নিচের কাধে। সংসার চালাতে কলম ফেলে হাতে তুলে নেন লোহার যন্ত্রপাতি। কঠিন কাজ তবুও করতেই হবে।
শুরু হয় কিশোর রাজুর জীবন সংগ্রাম। গ্যারেজে কাজ করার ফাকেই শুরু করেন জ্বালানি বিহীন মোটর সাইকেল তৈরীর কাজ। দেখতে দেখতে একসময় তিনি তার লক্ষ্যেও পৌছেযান।
সরেজমিনে মঙ্গলবার ভোলা সদর উপজেলার বীরশ্রেষ্ট মোস্তফা কামাল বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মীর ইব্রাহিম হোসেন রাজুর মোটর গ্যারেজে গেলে এমন সব কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০১২ সাল থেকে তেল বিহীন মোটরসাইকেল তৈরীর কাজ শুরু করেন। একটানা ২ বছর সাধনার পর এটি তৈরী করতে সক্ষম হন তিনি। দীর্ঘ গবেষণায় তার কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হলেও বর্তমানে এটি তৈরীতে ৮৫ হাজার টাকা ও ১৫দিন সময় লাগে। মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন চালাতে ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারির ও পাওয়ার কন্টোল বক্স ব্যবহার করা হয়েছে। আর ব্যাটারি চার্জ হতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা।
প্লাস্টিক, ব্যাটারি, লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরী এ মোটর সাইকেলটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকার এগিয়ে এলে পরিবেশবান্ধব মোটরসাইকেলটি দেশের জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মেয়েদের সম্পর্কে একটা প্রচলিত কথা হলো, মেয়েরা বেশী কথা বলে। আসলেই কি মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশী কথা বলে? বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কি বলে?
একজন মেয়ের সাথে আরেকজন মেয়ের দেখা হলে, বা কয়েকজন মেয়ে কোথাও একসাথে হলে বা টেলিফোনে একজন মেয়ে আরেকজন মেয়ের সাথে অনেক সময়ই ছেলেদের তুলনায় বেশী কথা বলে। মূলত এই সব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে ছেলেরা নিজেদের সাথে মেয়েদের তুলনা করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশী কথা বলে। তবে, বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত নন। তাদের মতে মোট পরিমানের হিসেবে মেয়েরা আসলেই ছেলেদের চেয়ে বেশী কথা বলে বা বেশী শব্দ ব্যবহার করে কিনা সেটা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
মেয়েদের নিজেদের মধ্যে বেশী কথা বলার ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা ‘ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশী কথা বলে’ না বলে বরং ‘ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের কথা বলার প্রবনতা বেশী’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মেয়েরা তুলনামূলকভাবে ছেলেদের চেয়ে বেশী সময় ঘরে থাকে। সন্তান লালন-পালন, নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক এবং ধর্মীয় প্রভাবের কারণে এমনটা ঘটে। এতে করে মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বৈচিত্র্যময় সঙ্গী এবং সুযোগ কম পায়।
girls talking মেয়েরা কি ছেলেদের তুলনায় বেশী কথা বলে? আসুন জানি বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কি বলে...
ফলে ক্লাশ রুম, পার্ক বা পার্টির মত জায়গায় মেয়েরা যখন একত্রিত হয় তখন তারা তাদের মনের জমানো কথার ঝাঁপি খুলে দেয়। অর্থাৎ, মেয়েরা অন্যের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করার সুযোগ কম পায়, যখন সুযোগ পায় তখন ছেলেদের তুলনায় বেশী কথা বলে। কিন্তু, এর উপর ভিত্তি করেই এটা বলা ঠিক হবে না, মেয়েরা মোটের উপর ছেলেদের চেয়ে বেশী কথা বলে বা মেয়েরা গড়ে ছেলেদের চেয়ে বেশী শব্দ ব্যবহার করে।
কথা বলার পরিমাণের ক্ষেত্রে লিঙ্গ পার্থক্যের সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত দিতে না পারলেও বিজ্ঞানীরা কথা বলার মানের ক্ষেত্রে লিঙ্গ পার্থ্যকের কিছু কিছু বিষয় আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক গুছিয়ে এবং স্পষ্ট করে মনের ভাব কথার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। মনের সূক্ষ্ম এবং জটিল অনুভূতিগুলোও তারা ছেলেদের চেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারে। যুক্তি উপস্থাপন, বাক্যের বৈচিত্র্য এবং সঠিক সময়ে সঠিক বাক্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশী দক্ষ। এর কারণ জানতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন, কথা বলার সময় ছেলেদের মস্তিষ্কের সামনের দিকের একটি নির্দিষ্ট অংশ উদ্দীপ্ত হয়। অন্যদিকে, মেয়েরা যখন কথা বলে তখন তাদের মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অংশ উদ্দীপ্ত না হয়ে মস্তিষ্কের সামনের দিকের বিস্তৃত অংশ জুড়ে ছাড়াছাড়াভাবে বেশ কিছু অংশ উদ্দীপ্ত হয়। যার মোট পরিমাণ ছেলেদের মস্তিষ্কের উদ্দীপ্ত হওয়া অংশের চেয়ে বেশী।
মস্তিষ্কের এই লিঙ্গ পার্থক্য বিজ্ঞানীরা বিবর্তনবাদ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে আদিম পৃথিবীতে ছেলেদেরকে শিকারের পেছন পেছন অনবরত ছুটতে হত। ফলে তারা কথা বলার কম সুযোগ পেত। অন্যদিকে, মেয়েরা আবাসস্থলে থাকত। তারা সন্তান লালন-পালন করত, ছোট ছোট শিশুদের সাথে শিশুতোষ কথা বলত, গল্প বলত, আবাসস্থলের অন্য মেয়েদের সাথে একসাথে ফল ও অন্যান্য খাদ্য সংগ্রহে যেত, বাসস্থান তৈরি করত, বাসস্থান তৈরি ও খাদ্য সংগ্রহের সময় তারা একে অন্যের সাথে কথা বলত, আলোচনা করত। এতে করে বিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কের যে অংশ কথা বলা নিয়ন্ত্রণ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে তা ধীরে ধীরে ছেলেদের চেয়ে উন্নত হয়েছে।
তবে কথা বলার ক্ষেত্রে লিঙ্গ পার্থক্যের সব চেয়ে বড় আবিষ্কারটি হয়েছে অতি সম্প্রতি। আবিষ্কারটি ‘জার্নাল অব নিউরোসায়েন্স’ নামক বিজ্ঞান পত্রিকার ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, মেয়ে শিশুরা ছেলে শিশুদের চেয়ে আগে কথা বলতে শিখে এবং তারা ছেলেদের চেয়ে দ্রুত কথা বলে। মেয়ে শিশুদের শব্দ ভান্ডার ছেলে শিশুদের চেয়ে সমৃদ্ধ এবং তারা ছেলে শিশুদের চেয়ে অধিকতর বৈচিত্র্যময় বাক্য গঠন করতে পারে। ভাষা শিক্ষা ক্লাসে মেয়ে শিশুদের পারফরমেন্স ছেলে শিশুদের চেয়ে ভালো। মেয়ে শিশুরা যুক্ত বর্ণ বিশ্লেষণেও ছেলে শিশুদের চেয়ে এগিয়ে।
এর কারণ জানতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্ব গবেষকেরা তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী দশটি শিশুকে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা লক্ষ্য করেন, ছেলে শিশুদের তুলনায় মেয়ে শিশুদের মস্তিষ্কে ফক্সপিটু (FOXP2) নামক প্রোটিন ৩০% বেশী থাকে। ফক্সপিটু-কে বলা হয় ‘ল্যাংগুয়েজ প্রোটিন’। এই প্রোটিনটিই ভাষার উপর দখল ও কথা বলার দক্ষতা নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষক দলের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘স্কুল অব মেডিসিন’ বিভাগের হেড ডাঃ মার্গারেট ম্যাককার্থি বলেন, ‘বিশেষ প্রোটিনের উপস্থিতির কারণে প্রাণীর লৈঙ্গিক পার্থক্য বিষয়ক গবেষণা এটিই প্রথম। এতে নারী-পুরুষের মস্তিষ্ক ও আচরণগত ব্যবধানের বিষয়টি আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।’
তবে এই একটি গবেষণাই যে পুরো ব্যাপারটিকে খোলাসা করছে ব্যাপারটি এমন নয়।
ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশুদের উপর গবেষণা করে প্রাপ্ত ফলাফল প্রাপ্তবয়ষ্ক নারী-পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কিনা বা কথা বলার ক্ষেত্রে লৈঙ্গিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে আর কি কি বিষয় জড়িত তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষক দলের একজন বিজ্ঞানী Dr. Bowers বলেন, ‘We can’t say that this is the end-all-be-all reasoning.’
এই গবেষণার বরাত দিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা, নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও ফেসবুকে আরেকটি তথ্য প্রকাশ হয় যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সে তথ্যে বলা হয়, ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশী কথা বলে। মেয়েরা গড়ে প্রতিদিন ২০,০০০ টি শব্দ ব্যবহার করে। অন্যদিকে, ছেলেরা গড়ে প্রতিদিন ০৭,০০০ টি শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু, ‘জার্নাল অব নিউরোসায়েন্স’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এ রকম কিছু উল্লেখ করা হয় নি। The Today Show এবং Marie Claire-এর মত মূল ধারার বাইরের কিছু পত্রিকা পাঠকদের মনোরঞ্জনের জন্য নিজেদের মনগড়া এই তথ্য প্রকাশ করে, যা স্পষ্টত হলুদ সাংবাদিকতা। মূলত, এই সব পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকেই এই মিথ্যা তথ্যটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে মূল ধারার বিভিন্ন বিদেশি পত্রিকা এবং ব্লগে The Today Show এবং Marie Claire-এর এই হলুদ সাংবাদিকতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়।
কথা বলার এবং ভাষার উপর দক্ষতার ব্যাপারে লিঙ্গ পার্থক্যের কারণ খুঁজে বের করতে আরো গবেষণা প্রয়োজন। কথা বলার মানের ব্যাপারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের দক্ষতা ও দক্ষতার কারণ কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণিত হলেও মেয়েরা কথা বলার পরিমানেও ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে কিনা তা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে জানতে আমাদেরকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
By : http://tunerpage.com

শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

  • গানে আর স্লোগানে জনতা স্বতঃস্ফূর্ত দাবি জানাচ্ছেন বিরামহীন। ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সহনশীলতার মন্ত্� গানে আর স্লোগানে জনতা স্বতঃস্ফূর্ত দাবি জানাচ্ছেন বিরামহীন। ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সহনশীলতার মন্ত্র পাঠ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শাহবাগের স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বরে অবস্থান নেওয়া তরুণেরা। গতকালের মহাসমাবেশে লাখো মানুষ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে দৃপ্ত শপথ নেন
    ছবি: মনিরুল আলম


শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর জেগে থাকবে। প্রবল প্রতিবাদের মুখে বাতিল করা হয়েছে বেলা তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কর্মসূচি। একজন ব্লগার হত্যা এবং জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে আগের কর্মসূচি বাতিল করা হয়। এর ফলে এখন থেকে গত ১১ দিনের মতোই টানা আন্দোলন চলবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার মহাসমাবেশ থেকে সাত ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ঘোষণা অনেকেই মানতে পারেননি। ব্লগসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। শাহবাগে অবস্থানরতরাও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তবে প্রতিবাদ তীব্র হয় রাত ১০টার পর। এ সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে, আহমেদ রাজীব হায়দার নামের একজন ব্লগারের মৃতদেহ পাওয়া গেছে মিরপুরে। তিনি শাহবাগ আন্দোলনের একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলেন। তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ব্লগার হত্যার সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ আগে থেকেই শাহবাগ ছেড়ে না যাওয়ার জন্য অবস্থান করছিলেন। তাঁরা মিছিল বের করেন। গণজাগরণ মঞ্চ দখল করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ পর্যায়ে ১১টার দিকে মঞ্চে আসেন ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার। তিনি এসে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
মঞ্চ থেকে ১১টা ২৩ মিনিটে ব্লগার রাজীবের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, জামায়াত-শিবির একজন ব্লগারকে খুন করেছে। এ ছাড়া তারা হরতাল ডাকার মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এ অবস্থায় কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসিই নয়, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। এই দুই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবেন না বলেও মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ব্লগার রাজীবকে নিয়ে (ব্লগে তিনি থাবা বাবা নামে লিখতেন) জামায়াত-শিবির পরিচালিত ব্লগ ‘সোনার বাংলাদেশ ব্লগ’-এ একটি লেখা প্রকাশ করা হয়েছিল। ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই লেখার শিরোনাম ছিল, ‘শাহবাগের আন্দোলনের পিছনের মানুষগুলো’। স্পর্শের বাইরে ছদ্মনামে একজন লেখাটি লেখেন। সেখানে থাবা বাবাকে আক্রমণ করে নানাভাবে উসকানি দেওয়া হয়। রাজীব খুন হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সোনার বাংলাদেশ ব্লগ থেকে লেখাটি মুছে ফেলা হয়েছে।
গতকাল গভীর রাতে মঞ্চ থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে আজ শনিবার কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে। পাশাপাশি সোমবারের হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে দৈনন্দিন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মঞ্চ থেকে জামায়াত-শিবিরের সোনার বাংলাদেশ ব্লগ বন্ধ এবং এর উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় মঞ্চ থেকে। এ সময় আরও বলা হয়, আজ ব্লগার রাজীবের মৃতদেহ শাহবাগে আনা হবে এবং বাদ আসর এখানেই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আবদুল কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। আর গতকাল ছিল সেই আন্দোলনের একাদশ দিন। টানা ১১ দিন এই আন্দোলন চলেছে এক মুহূর্তও বিরতি ছাড়া। নিরবচ্ছিন্ন, সুশৃঙ্খল এই আন্দোলনে কেঁপেছে পুরো দেশ। রাজধানীর সীমানা ছাড়িয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে গেছে সেই কম্পন।
জাগরণ সমাবেশে জনসমুদ্র: শাহবাগে গতকাল ছিল পূর্বনির্ধারিত জাগরণ সমাবেশ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-শিক্ষক, সাধারণ মানুষ, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক, দিনমজুরসহ সর্বস্তরের মানুষ এসেছিলেন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে।
শুক্রবার বিকেল চারটায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘জাগরণের সমাবেশ’। সমাবেশে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।
সমাবেশ উপস্থাপনা করেন অঞ্জন রায় এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত, লেখক-সাংবাদিক একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে।
সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সমাবেশে চলে বক্তব্য, সঙ্গে স্লোগান। অগ্নিকন্যা লাকী ও শাওনের স্লোগানে উজ্জীবিত ছিল পুরো গণজাগরণ চত্বর।
এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার কর্মসূচি দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাহবাগে একটানা অবস্থানের বদলে প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলার ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে সেটি বাতিল হয়।
আয়োজকেরা জানিয়েছিলেন, রাজধানীর দুটি প্রধান হাসপাতাল, যানজট—এসব কথা ভেবেই একটানা কর্মসূচি চালানোর অবস্থান বদলানো হয়েছে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত করা, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং জামায়াতের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ভাষাসৈনিকেরাও ছিলেন: এই সমাবেশে যোগ দিতে এসেছিলেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সৈনিকেরাও। আহমেদ রফিক, কামাল লোহানী, শেখ জিয়াউল হক, জামিল আক্তার, বরুণ বিশ্বাস, রওশন জামিল, মনসুর মুসা, এস আর মাহমুদসহ ভাষাসৈনিকেরা বিকেলে হাজির হন সমাবেশে।
এসেছিলেন হুমায়ূন আহমেদের মা: এর আগে সকালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংহতি জানাতে আসেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দুই সন্তান ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব, দুই পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে শাহবাগে আসেন এই রত্নগর্ভা।
আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কড়া রোদ মাথায় নিয়ে সপরিবারে সবার সঙ্গে বসে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিসংবলিত স্লোগানে কণ্ঠ মেলান হুমায়ূন পরিবার।
এ সময় জাফর ইকবাল বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে এ দেশের তরুণ সমাজ আগেও যেমন হাল ধরেছিল, স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তারা প্রমাণ করেছে, দেশের সত্যিকার ভবিষ্যৎ তাদের হাতে।
বাংলাদেশের গণজাগরণ নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের বিভ্রান্তি ও বিকৃত প্রচারণা সম্পর্কে জাফর ইকবাল বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছিল। সে সময় আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এবারও নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধে তরুণেরা সেভাবেই জয়ী হবে।’
১৯৭১ সালে পিরোজপুরে এসডিপিও হিসেবে কর্মরত থাকার সময় হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমানকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি: গতকালের এই সমাবেশ থেকে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান সব সংগঠনের ছাত্রনেতারা। এ ছাড়া জামায়াতের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বয়কটেরও দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে ঘোষণায়ও একই আহ্বান জানানো হয়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, এই দেশের বিরোধিতা করেছিল জামায়াত। কাজেই তাদের এই দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। একই দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এস এম শুভ, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সভাপতি রাশিদুল হাসান, বাংলাদেশ ছাত্র সমিতির আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান খান, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি সালমান রহমান, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসেন আহমেদ তফসির ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ।
ভারতীয় ছাত্রসংগঠনের সংহতি: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে চলা আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে ভারতের ছাত্রসংগঠন ভারত ছাত্র ফেডারেশন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির গণমাধ্যম বিভাগের দায়িত্বে থাকা ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, শুক্রবার সকালে ভারত ছাত্র ফেডারেশন থেকে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।